Ibrahim • BN-TAFISR-FATHUL-MAJID
﴿ هَٰذَا بَلَٰغٌۭ لِّلنَّاسِ وَلِيُنذَرُوا۟ بِهِۦ وَلِيَعْلَمُوٓا۟ أَنَّمَا هُوَ إِلَٰهٌۭ وَٰحِدٌۭ وَلِيَذَّكَّرَ أُو۟لُوا۟ ٱلْأَلْبَٰبِ ﴾
“THIS IS A MESSAGE unto all mankind. Hence, let them be warned thereby, and let them know that He is the One and Only God; and let those who are endowed with insight take this to heart!”
৫২ নং আয়াতের তাফসীর: هٰذَا بَلٰغٌ বার্তা- বলতে কুরআনকে বুঝানো হয়েছে, অর্থাৎ এ কুরআন মানুষের জন্য বার্তা, যদি কুরআনের বার্তা শুনে ঈমান আনে তাহলে কুরআন তার জন্য সুসংবাদ দিবে, আর যদি বার্তা শুনে মুখ ফিরিয়ে নেয় তাহলে কুরআন তাকে জাহান্নামের বিষয়ে সতর্ক করবে, তার ঠিকানা হবে জাহান্নাম। সুতরাং এ কুরআন দিয়ে অবাধ্যদেরকে আল্লাহ তা‘আলার শাস্তি সম্পর্কে সতর্ক করা হবে। কুরআন নাযিল করার অন্যতম আরো হিকমত হল যে, মানুষ যাতে জেনে নিতে পারে আল্লাহ তা‘আলা ছাড়া সত্য কোন মা‘বূদ নেই। কুরআনে এ ব্যাপারে সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করা হয়েছে এবং যাতে বুদ্ধিমানগণ এ কুরআন থেকে উপদেশ গ্রহণ করতে পারে। প্রথম হিকমতের দিকে ইঙ্গিত করে আল্লাহ তা‘আলা বলেন: (كِتٰبٌ أُحْكِمَتْ اٰيٰتُه۪ ثُمَّ فُصِّلَتْ مِنْ لَّدُنْ حَكِيْمٍ خَبِيْرٍ لا أَلَّا تَعْبُدُوْآ إِلَّا اللّٰهَ) “এটা এমন গ্রন্থ যার আয়াতগুলো সুদৃঢ়, অতঃপর বিস্তারিতভাবে বর্ণিত হয়েছে প্রজ্ঞাময়, সর্বজ্ঞের পক্ষ থেকে। তোমরা আল্লাহ ব্যতীত অন্যের ইবাদত করবে না।” (সূর হূদ ১১:১-২) দ্বিতীয় হিকমতের দিকে ইঙ্গিত করে আল্লাহ তা‘আলা বলেন: (كِتٰبٌ أَنْزَلْنٰهُ إِلَيْكَ مُبَارَكٌ لِّيَدَّبَّرُوْآ اٰيٰتِه۪ وَلِيَتَذَكَّرَ أُولُوا الْأَلْبَابِ) “(এ কুরআন) একটি বরকতময় কিতাব, আমি তা তোমার প্রতি নাযিল করেছি যেন মানুষ এর আয়াতসমূহ অনুধাবন করে এবং জ্ঞানবান লোকেরা উপদেশ গ্রহণ করে।” (সূরা স্ব-দ ৩৮:২৯) সুতরাং যারা কুরআন থেকে শিক্ষা নেয় তারাই প্রকৃত জ্ঞানী তাই বলতে পারি জ্ঞানী হওয়ার মানদণ্ড হল কুরআনকে গ্রহণ করা। যার মাঝে কুরআনের জ্ঞান নেই সে প্রকৃত জ্ঞানী নয়। আল্লাহ তা‘আলা আমাদেরকে কুরআন থেকে শিক্ষা নিয়ে প্রকৃত জ্ঞানী হওয়ার তাওফীক দান করুন। আমীন! আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়: ১. কুরআন মাজীদ মানবজাতির জন্য একটি সতর্কবার্তা এবং জ্ঞানী লোকদের জন্য উপদেশবাণী। ২. আল্লাহ তা‘আলাই সত্যিকার মা‘বূদ বা ইবাদতের হকদার।