An-Nahl • BN-TAFSEER-IBN-E-KASEER
﴿ إِنَّمَا يَفْتَرِى ٱلْكَذِبَ ٱلَّذِينَ لَا يُؤْمِنُونَ بِـَٔايَٰتِ ٱللَّهِ ۖ وَأُو۟لَٰٓئِكَ هُمُ ٱلْكَٰذِبُونَ ﴾
“It is but they who will not believe in God's messages that invent this falsehood; and it is they, they who are lying!”
১০৪-১০৫ নং আয়াতের তাফসীর আল্লাহ তাআলা খবর দিচ্ছেন যে, যারা আল্লাহর যিকর হতে মুখ ফিরিয়ে নেয় এবং তাঁর কিতাবের প্রতি অবহেলা প্রদর্শন করে ও তাঁর কথার উপর বিশ্বাসই রাখে না, এইরূপ লোকদেরকে আল্লাহ তাআলাও দূরে নিক্ষেপ করে থাকেন। তারা সত্য দ্বীনের উপর আসার তাওফীক লাভ করে না। পরকালে তারা যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি ভোগ করবে। অতঃপর আল্লাহ তাআলা বলেন যে, এই রাসূল (সঃ) আল্লাহ তাআলার উপর মিথ্যা আরোপ করতে পারেন না। এই কাজ তো হচ্ছে নিকৃষ্টতম মাখলুকের। যারা ধর্মত্যাগী ও কাফির তাদের মিথ্যা কথা লোকদের মধ্যে প্রসিদ্ধ হয়ে থাকে। হযরত মুহাম্মদ মুস্তফা (সঃ) তো সমস্ত মাখলুকের মধ্যে সবচেয়ে বেশী উত্তম দ্বীনদার, খোদাভীরু এবং সত্যবাদী। তিনি সর্বাপেক্ষা বেশী জ্ঞানী, ঈমানদার এবং পূণ্যবান। সত্যবাদীতায়, কল্যাণ সাধনে, বিশ্বাসে এবং মারেফাতে তিনি অদ্বিতীয়। কাফিরদেরকে জিজ্ঞেস করলে তারাও তাঁর সত্যবাদীতার কথা অকপটে স্বীকার করবে। তারা তাঁর বিশ্বস্ততার প্রশংসায় পঞ্চমুখ। তাদের মধ্যেই তিনি ‘আমীন’ বা আমানতদার উপাধিতে ভূষিত হয়েছিলেন। রোমক সম্রাট হিরাক্লিয়াস যখন আবু সুফিয়ানকে (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (সঃ) সম্পর্কে অনেকগুলি প্রশ্ন করেছিলেন তখন একটি প্রশ্ন এটাও ছিলঃ “নুবওয়তের পূর্বে তোমরা তাঁকে কোন দিন মিথ্যা বলতে শুনেছো কি?” উত্তরে তিনি বলেছিলেনঃ “না, কখনো নয়। এ সময় তিনি মন্তব্য করেছিলেনঃ “যে ব্যক্তি পার্থিব ব্যাপারে কখনো মিথ্যা কথা বলেন নাই, তিনি আল্লাহ তাআলার উপর কি করে মিথ্যা আরোপ করতে পারেন?”