Al-Baqara • BN-TAFSEER-IBN-E-KASEER
﴿ كُتِبَ عَلَيْكُمُ ٱلْقِتَالُ وَهُوَ كُرْهٌۭ لَّكُمْ ۖ وَعَسَىٰٓ أَن تَكْرَهُوا۟ شَيْـًۭٔا وَهُوَ خَيْرٌۭ لَّكُمْ ۖ وَعَسَىٰٓ أَن تُحِبُّوا۟ شَيْـًۭٔا وَهُوَ شَرٌّۭ لَّكُمْ ۗ وَٱللَّهُ يَعْلَمُ وَأَنتُمْ لَا تَعْلَمُونَ ﴾
“FIGHTING is ordained for you, even though it be hateful to you; but it may well be that you hate a thing the while it is good for you, and it may well be that you love a thing the while it is bad for you: and God knows, whereas you do not know.”
দ্বীন ইসলামকে রক্ষার জন্যে ইসলামের শত্রুদের সাথে যুদ্ধ করা ফরয হওয়ার নির্দেশ এই আয়াতে দেয়া হয়েছে। যুহরী (রঃ) বলেন যে, প্রত্যেক লোকের উপরেই জিহাদ ফরয। সে স্বয়ং যুদ্ধে যোগদান করুক বা বাড়ীতে বসেই থাক। যারা বাড়ীতে অবস্থান করবে তাদের নিকট সাহায্য চাওয়া হলে তাদেরকে অবশ্যই সাহায্য করতে হবে। প্রয়োজনবোধে তাদেরকে যুদ্ধ ক্ষেত্রে যোগদানের আহ্বান জানান হলে তাদেরকে অবশ্যই যুদ্ধের মাঠে যোগদান করতে হবে। সহীহ হাদীসে রয়েছে, “যে ব্যক্তি এমন অবস্থায় মারা গেল যে, সে জিহাদে অংশগ্রহণ করলো, না মনে জিহাদের কথা বললো, সে অজ্ঞতা যুগের মৃত্যুবরণ করলো।' অন্য হাদীসে রয়েছে, মক্কা বিজয়ের পরে আর হিজরত নেই। তবে রয়েছে জিহাদ ও নিয়্যাত। যখন তোমাদেরকে জিহাদের জন্যে ডাক দেয়া হবে তখন তোমরা তার জন্যে বেরিয়ে পড়বে। মক্কা বিজয়ের দিনে তিনি এই নির্দেশ দিয়েছিলেন।অতঃপর বলা হচ্ছে-এই জিহাদের নির্দেশ তোমাদের নিকট কঠিন মনে হতে পারে। কেননা, এতে কষ্ট ও বিপদ রয়েছে এবং তোমরা নিহত হয়ে যেতেও পার কিংবা আহত হতে পার। তা ছাড়া সফরের কষ্ট, শত্রুদের আক্রমণ ইত্যাদি। কিন্তু জেনে রেখো যে, যা তোমরা নিজেদের জন্যে খারাপ মনে করছো তাই হয়তো তোমাদের জন্যে উত্তম। কেননা, এতেই তোমাদের বিজয় এবং শত্রুদের ধ্বংস রয়েছে। তাদের ধন-মাল, তাদের সামাজ্য এমন কি তাদের সন্তানাদি পর্যন্ত তোমাদের পায়ের উপর নিক্ষিপ্ত হবে। আবার এও হতে পারে যে, তোমরা যে জিনিসকে তোমাদের জন্যে ভাল মনে করছো তাই তোমাদের জন্যে ক্ষতিকর। সাধারণতঃ এরূপ হয়ে থাকে যে, মানুষ একটা জিনিস চায় কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তাতে কোন মঙ্গল ও কল্যাণ নেই। অনুরূপভাবে তোমরা জিহাদ না করাকে মঙ্গল মনে করছে কিন্তু ওটা তোমাদের জন্য চরম ক্ষতিকর। কেননা,এর ফলে শক্ররা তোমাদের উপর বিজয় লাভ করবে এবং দুনিয়ায় ততামাদের জন্যে পা রাখারও জায়গা থাকবে না। সব কাজের পরিণামের জ্ঞান একমাত্র আল্লাহ তাআলারই রয়েছে। তিনিই জানেন যে, পরিণাম হিসেবে তোমাদের জন্যে কোন্ কাজটি ভাল ও কোন্ কাজটি মন্দ। তিনি তোমাদেরকে ঐ কাজেরই নির্দেশ দিয়ে থাকেন যার মধ্যে তোমাদের জন্যে ইহকাল ও পরকালের মঙ্গল নিহিত রয়েছে। সুতরাং তোমরা তাঁর নির্দেশসমূহ মনেপ্রাণে স্বীকার করে নাও। তাঁর প্রত্যেক নির্দেশকে সন্তুষ্ট চিত্তে মেনে চল। ওরই মধ্যে তোমাদের মঙ্গল ও কল্যাণ নিহিত রয়েছে।