WhatsApp Book A Free Trial
القائمة

🕋 تفسير الآية 31 من سورة سُورَةُ النُّورِ

An-Noor • BN-TAFSEER-IBN-E-KASEER

﴿ وَقُل لِّلْمُؤْمِنَٰتِ يَغْضُضْنَ مِنْ أَبْصَٰرِهِنَّ وَيَحْفَظْنَ فُرُوجَهُنَّ وَلَا يُبْدِينَ زِينَتَهُنَّ إِلَّا مَا ظَهَرَ مِنْهَا ۖ وَلْيَضْرِبْنَ بِخُمُرِهِنَّ عَلَىٰ جُيُوبِهِنَّ ۖ وَلَا يُبْدِينَ زِينَتَهُنَّ إِلَّا لِبُعُولَتِهِنَّ أَوْ ءَابَآئِهِنَّ أَوْ ءَابَآءِ بُعُولَتِهِنَّ أَوْ أَبْنَآئِهِنَّ أَوْ أَبْنَآءِ بُعُولَتِهِنَّ أَوْ إِخْوَٰنِهِنَّ أَوْ بَنِىٓ إِخْوَٰنِهِنَّ أَوْ بَنِىٓ أَخَوَٰتِهِنَّ أَوْ نِسَآئِهِنَّ أَوْ مَا مَلَكَتْ أَيْمَٰنُهُنَّ أَوِ ٱلتَّٰبِعِينَ غَيْرِ أُو۟لِى ٱلْإِرْبَةِ مِنَ ٱلرِّجَالِ أَوِ ٱلطِّفْلِ ٱلَّذِينَ لَمْ يَظْهَرُوا۟ عَلَىٰ عَوْرَٰتِ ٱلنِّسَآءِ ۖ وَلَا يَضْرِبْنَ بِأَرْجُلِهِنَّ لِيُعْلَمَ مَا يُخْفِينَ مِن زِينَتِهِنَّ ۚ وَتُوبُوٓا۟ إِلَى ٱللَّهِ جَمِيعًا أَيُّهَ ٱلْمُؤْمِنُونَ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ ﴾

“And tell the believing women to lower their gaze and to be mindful of their chastity, and not to display their charms [in public] beyond what may [decently] be apparent thereof; hence, let them draw their head-coverings over their bosoms. And let them not display [more of] their charms to any but their husbands, or their fathers, or their husbands’ fathers, or their sons, or their husbands’ Sons, or their brothers, or their brothers’ sons, or their sisters’ sons, or their womenfolk, or those whom they rightfully possess, or such male attendants as are beyond all sexual desire, or children that are as yet unaware of women’s nakedness; and let them not swing their legs [in walking] so as to draw attention to their hidden charms And [always], O you believers - all of you - turn unto God in repentance, so that you might attain to a happy state!”

📝 التفسير:

এখানে আল্লাহ তা'আলা ঈমান আনয়নকারিণী নারীদেরকে হুকুম করছেন যাতে মর্যাদাশীল পুরুষদের মনে সান্ত্বনা আসে এবং অজ্ঞতাযুগের জঘন্য প্রথার অবসান ঘটে।বর্ণিত আছে যে, হযরত আসমা বিনতে মুরসিদ (রাঃ)-এর বাড়ীটি বানু হারিসার মহল্লায় ছিল। তার কাছে স্ত্রীলোকেরা আগমন করতো এবং তখনকার প্রথা অনুযায়ী তাদের পায়ের অলংকারাদি এবং বক্ষ ও চুল খুলে রাখা অবস্থায় আসতো। হযরত আসমা (রাঃ) বলেনঃ “এটা কতই না জঘন্য প্রথা!” ঐ সময় এই আয়াতগুলো অবতীর্ণ হয়। সুতরাং নির্দেশ দেয়া হচ্ছে যে, মুসলমান নারীদেরকেও তাদের চক্ষু নিম্নমুখী তে হবে। স্বামী ছাড়া আর কারো দিকে কাম-দৃষ্টিতে তাকানো চলবে না। অপরিচিত লোকের দিকে তো তাকানোই চলবে না, কাম-দৃষ্টিতেই হোক অথবা এমনিই হোক।হযরত উম্মে সালমা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, তিনি এবং হযরত মায়মূনা (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর নিকট ছিলেন এমন সময় হযরত ইবনে উম্মে মাকতূম (রাঃ) তথায় আগমন করেন। এটা ছিল পর্দার হুকুম নাযিল হওয়ার পরের ঘটনা। রাসূলুল্লাহ (সঃ) তাঁদেরকে বললেনঃ “তোমরা পর্দা কর।” তাঁরা বললেনঃ “হে আল্লাহর রাসূল (সঃ)! উনি তো অন্ধ লোক। তিনি আমাদেরকে। দেখতেও পাবেন না এবং চিনতেও পারবেন না।” তখন রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেনঃ “তোমরা তো অন্ধ নও যে তাকে দেখতে পাবে না?” (এ হাদীসটি ইমাম আবু দাউদ (রঃ) ও ইমাম তিরমিযী (রঃ) বর্ণনা করেছেন) তবে কোন কোন আলেম বলেন যে, কাম-দৃষ্টি ছাড়া তাকানো হারাম নয়। তাদের দলীল হলো ঐ হাদীসটি যাতে রয়েছে যে, ঈদের দিন হাবশী লোকেরা অস্ত্রের খেলা দেখাচ্ছিল। ঐ সময় রাসূলুল্লাহ (সঃ) হযরত আয়েশা (রাঃ)-কে তার পিছনে দাঁড় করিয়ে দেন। তিনি তাদের খেলা দেখছিলেন এবং মনভরে দেখার পর ক্লান্ত হয়ে চলে আসেন। স্ত্রীলোকদেরকেও সতীত্ব রক্ষা করে চলতে হবে। নিজেদের আভরণ কারো সামনে প্রকাশ করা যাবে না। পর পুরুষের সামনে নিজের সৌন্দর্যের কোন অংশই প্রকাশ করা যাবে না। হ্যা, তবে যেটা ঢেকে রাখা সম্ভব নয় সেটা অন্য কথা। যেমন চাদর ও উপরের কাপড় ইত্যাদি। এগুলোকে গোপন রাখা স্ত্রীলোকের পক্ষে সম্ভব নয়। এটাও বর্ণিত আছে যে, এর দ্বারা মুখমণ্ডল, হাতের কজি এবং আংটিকে বুঝানো হয়েছে। কিন্তু হতে পারে যে, এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো ঐ সৌন্দর্যের স্থান যেটা প্রকাশ করা শরীয়তে নিষিদ্ধ। হযরত আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, তারা যেন নিজেদের আভরণ প্রকাশ না করে’-এর অর্থ হলোঃ তারা যেন তাদের বালি, হার, পায়ের অলংকার ইত্যাদি প্রদর্শন না করে।বর্ণিত আছে যে, আভরণ অর্থাৎ অলংকার বা আকর্ষণীয় পোশাক দুই প্রকারের রয়েছে। এক তো হলো ওটাই যা শুধু স্বামীই দেখে। যেমন আংটি ও কংকন। আর দ্বিতীয় আভরণ হলো ওটাই যা অপরও দেখে থাকে। যেমন উপরের কাপড়। যুহরী (রঃ) বলেন যে, এই আয়াতে যেসব আত্মীয়ের বর্ণনা দেয়া হয়েছে তাদের সামনে কংকন, দোপাট্টা এবং বালি প্রকাশিত হয়ে গেলে কোন দোষ নেই। আর অপর লোকদের সামনে যদি শুধু আংটি প্রকাশ পায় তবেও কোন দোষ হবে না। অন্য রিওয়াইয়াতে আংটির সাথে পায়ের মলেরও উল্লেখ রয়েছে। হতে পারে যে, (আরবি)-এর তাফসীর হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) প্রমুখ গুরুজন মুখমণ্ডল এবং হাতের কজি করেছেন। যেমন সুনানে আবি দাউদে রয়েছে যে, একদা হযরত আসমা বিনতে আবি বকর (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর নিকট আগমন করেন। ঐ সময় তিনি পাতলা কাপড় পরিহিতা ছিলেন। তাঁকে এভাবে আসতে দেখে রাসূলুল্লাহ (সঃ) মুখ ফিরিয়ে নেন এবং বলেনঃ “নারী যখন প্রাপ্ত বয়সে পৌঁছে যায় তখন ওটা এবং ওটা ছাড়া অর্থাৎ চেহারা ও হাতের কজি ছাড়া তার আর কোন অঙ্গ দেখানো উচিত নয়।” (এ হাদীসটি মুরসাল। খালেদ ইবনে দারীক এটা হযরত আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণনা করেছেন। কিন্তু তাঁর হযরত আয়েশার সাথে সাক্ষাৎ হওয়া প্রমাণিত নয়। এসব ব্যাপারে আল্লাহ তা’আলাই সবচেয়ে ভাল জানেন)মহান আল্লাহ বলেনঃ তারা যেন তাদের গ্রীবা ও বক্ষদেশ মাথার কাপড় দ্বারা আবৃত করে। এর ফলে বক্ষ ও গলার অলংকার টাকা থাকবে। অজ্ঞতার যুগে তাদের এ অভ্যাস ছিল না। স্ত্রীলোকেরা তাদের বক্ষের উপর কিছুই দিতো না। মাঝে মাঝে গ্রীবা, চুল, বালি ইত্যাদি সবই পরিষ্কারভাবে দেখা যেতো। অন্য আয়াতে রয়েছেঃ “হে নবী (সঃ)! তুমি তোমার স্ত্রীদেরকে, কন্যাদেরকে ও মুমিনদের নারীদেরকে বল- তারা যেন তাদের চাদরের কিয়দংশ নিজেদের উপর টেনে দেয়; এতে তাদেরকে চেনা সহজতর হবে; ফলে তাদেরকে উত্যক্ত করা হবে না।”(আরবি) শব্দটি (আরবি) শব্দের বহুবচন। প্রত্যেক ঐ জিনিসকে (আরবি) বলা হয় যা ঢেকে ফেলে। দো-পাট্টা মাথাকে ঢেকে ফেলে বলে ওটাকেও (আরবি) বলা হয়। সুতরাং স্ত্রীলোকদের উচিত যে, তারা যেন নিজেদের ওড়না দিয়ে বা অন্য কোন কাপড় দিয়ে তাদের গ্রীবা ও বক্ষকে আবৃত করে রাখে।হযরত আয়েশা (রাঃ) বলেনঃ “আল্লাহ তাআলা ঐ স্ত্রীলোকদের উপর রহম করুন যারা প্রথম প্রথম হিজরত করেছিল। যখন এই আয়াত অবতীর্ণ হয় তখন তারা নিজেদের চাদর ফেড়ে দো-পাট্টা বানিয়েছিল। কেউ কেউ নিজের তহবন্দের পা কেটে নিয়ে ওটা দ্বারা মাথা ঢেকে নেয়। একবার স্ত্রীলোকেরা হযরত আয়েশা (রাঃ)-এর সামনে কুরায়েশ মহিলাদের ফযীলত বর্ণনা করতে শুরু করলে তিনি বলেনঃ “তাদের ফযীলত আমিও স্বীকার করি। কিন্তু আল্লাহর শপথ! আনসার মহিলাদের অপেক্ষা বেশী ফযীলত আমি কোন মহিলার দেখিনি। তাদের অন্তরে আল্লাহর কিতাবের সত্যতা ও ওর উপর পূর্ণ ঈমান যে রয়েছে তা নিঃসন্দেহে প্রশংসার যোগ্য। সূরায়ে নূরের আয়াত (আরবি) যখন অবতীর্ণ হয় এবং তাদের পুরুষ লোকেরা তাদেরকে এটা শুনিয়ে দেয় তখন ঐ মুহূর্তে তারা ঐ আয়াতের উপর আমল করে। ফজরের নামাযে তারা হাযির হলে দেখা যায় যে, সবারই মাথায় দো-পাট্টা বিদ্যমান রয়েছে। দেখে মনে হয় যেন তাদের মাথার উপর বালতি রাখা আছে।এরপর আল্লাহ তাআলা ঐ পুরুষ লোকদের বর্ণনা দিচ্ছেন যাদের সামনে নারীরা থাকতে পারে। খুব সাজসজ্জা ছাড়া লজ্জাবনতা অবস্থায় তাদের সামনে তারা যাতায়াত করতে পারে। যদিও বাহ্যিক কোন আভরণের উপর তাদের দৃষ্টি পড়ে যায় তবে এতে কোন অপরাধ হবে না। তবে স্বামী এর ব্যতিক্রম। কেননা নারী তার সামনে পূর্ণ সাজসজ্জার সাথে থাকতে পারবে। চাচা ও মামার সাথেও বিবাহ নিষিদ্ধ, তথাপি তাদের নাম এখানে উল্লেখ করা হয়নি, এর কারণ এই যে, তারা হয়তো তাদের ছেলেদের সামনে তাদের ভ্রাতুস্পুত্রী ও ভাগিনেয়ীদের সৌন্দর্য বর্ণনা করবে। এজন্যেই তাদের সামনেও দোপাট্টা বাধা ছাড়া আসা উচিত নয়।এ আয়াতে নারীদের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ মুসলমান নারীরা পরস্পরের সামনে নিজেদের আভরণ প্রকাশ করতে পারে। কিন্তু অমুসলিম নারীর সামনে মুসলিম নারী তার আভরণ প্রকাশ করতে পারে না। এর কারণ এই যে, খুব সম্ভব ঐ অমুসলিম নারীরা তাদের স্বামীদের সামনে ঐ মুসলিম নারীদের সৌন্দর্য বর্ণনা করবে। মুসলিম নারীদের ব্যাপারেও এই আংশকা আছে বটে, কিন্তু শরীয়ত এটা হারাম করে দিয়েছে বলে তারা এরূপ করতে পারে না। কিন্তু অমুসলিম নারীকে এর থেকে বাধা দিবে কিসে?হযরত ইবনে মাসউদ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “কোন নারীর জন্যে বৈধ নয় যে, সে অন্য নারীর সাথে মিলিত হয়ে তার সৌন্দর্যের বর্ণনা তার স্বামীর সামনে এমনভাবে দেয় যেন তার স্বামী ঐ নারীকে স্বয়ং দেখতে রয়েছে।” (এ হাদীসটি ইমাম বুখারী (রঃ) ও ইমাম মুসলিম (রঃ) তাখরীজ করেছেন)হযরত হাসির ইবনে কায়েস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, আমীরুল মুমিনীন হযরত উমার ইবনে খাত্তাব (রাঃ) হযরত আবু উবাইদাহ (রাঃ)-কে লিখেনঃ “আমি অবগত হয়েছি যে, কোন কোন মুসলিম নারী গোসল খানায় যায় এবং তাদের সাথে মুশরিকা নারীরাও থাকে। কোন মুসলিম নারীর জন্যে বৈধ নয় যে, সে নিজের দেহ কোন অমুসলিম নারীকে প্রদর্শন করে।” (এটা সাঈদ ইবনে মানসূর (রঃ) তাঁর সুনানে বর্ণনা করেছেন)হযরত মুজাহিদও (রাঃ) (আরবি)-এর তাফসীরে বলেন যে, এর দ্বারা মুসলিম নারীদেরকেই বুঝানো হয়েছে। সুতরাং তাদের সামনে ঐ আভরণ প্রকাশ করা যাবে যা মুহরিম আত্মীয়দের সামনে প্রকাশ করা যায়। অর্থাৎ গ্রীবা, বালি এবং হার। অতএব, মুসলিম নারীর জন্যে উলঙ্গ মাথায় মুশরিকা মহিলার সামনে থাকা বৈধ নয়।হযরত আতা (রঃ) তাঁর পিতা হতে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর সাহাবীগণ যখন বায়তুল মুকাদ্দাসে পৌঁছেন তখন স্ত্রীদের ধাত্রী তো ইয়াহুদী ও খৃষ্টান মহিলারাই ছিল। যদি এটা প্রমাণিত হয় তবে বুঝতে হবে যে, এটা প্রয়োজন বশতঃ ছিল। এসব ব্যাপারে আল্লাহ তাআলাই ভাল জানেন। তবে মুশরিকা নারীদের মধ্যে যারা বাদী বা দাসী তারা এই হুকুম বহির্ভূত। কেউ কেউ বলেন যে, গোলামদেরও হুকুম এটাই।হযরত আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, একদা রাসূলুল্লাহ (সঃ) হযরত ফাতিমা (রাঃ)-কে দেয়ার জন্যে একটি গোলামকে নিয়ে তাঁর নিকট আগমন করেন। গোলামটিকে দেখে হযরত ফাতিমা (রাঃ) নিজেকে তাঁর দো-পাট্টার মাঝে আবৃত করতে থাকেন। কিন্তু ওটা ছোট ছিল বলে মাথা ঢাকলে পা খোলা থাকছিল এবং পা ঢাকলে মাথা খোলা থাকছিল। এ দেখে রাসূলুল্লাহ (সঃ) তাঁকে বলেনঃ “হে আমার প্রিয় কন্যা! তুমি এতো কষ্ট করছো কেন? আমি তো তোমার আব্বা এবং এতো তোমার গোলাম?” (এই হাদীসটি ইমাম আবু দাঊদ (রঃ) বর্ণনা করেছেন) ইবনে আসাকির (রঃ)-এর বর্ণনায় রয়েছে যে, ঐ গোলামটির নাম ছিল আবদুল্লাহ ইবনে মাসআদাহ আল ফাযারী। তার দেহের রঙ ছিল খুবই কালো। হযরত ফাতিমা (রাঃ) তাকে লালন-পালন করে আযাদ করে দিয়েছিলেন। সিফফীনের যুদ্ধে সে হযরত মুআবিয়া (রাঃ)-এর পক্ষ অবলম্বন করেছিল এবং হযরত আলী (রাঃ)-এর চরম বিরোধী ছিল।হযরত উম্মে সালমা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) একদা স্ত্রীলোকদেরকে সম্বোধন করে বলেনঃ “তোমাদের মধ্যে যার মুকতাব গোলাম রয়েছে, যার সাথে এ শর্ত হয়েছে যে, সে যদি এতো টাকা দিতে পারে তবে সে আযাদ হয়ে যাবে। অতঃপর তার কাছে ঐ পরিমাণ টাকা যোগাড়ও হয়ে গেছে। এমতাবস্থায় তোমাদের ঐ গোলাম থেকে পর্দা করা উচিত। (এ হাদীসটি ইমাম আহমাদ (রঃ) স্বীয় মুসনাদে বর্ণনা করেছেন)পুরুষদের মধ্যে যারা যৌন-কামনা রহিত তাদের সামনেও আভরণ প্রকাশ করা যাবে। অর্থাৎ কাজ কামকারী নওকর চাকরদের মধ্যে যাদের পুরুষত্ব নেই, স্ত্রীলোকদের প্রতি কোনই আকর্ষণ নেই তাদের হুকুম মুহরিম আত্মীয় পুরুষদের মতই। অর্থাৎ এসব আভরণ তাদের সামনে প্রকাশ করা চলবে। কিন্তু সেই খোজা, যার মুখের ভাষা খারাপ এবং সদা মন্দ কথা ছড়িয়ে বেড়ায় সে এই হুকুম বহির্ভূত।হযরত উম্মে সালমা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, একজন খোজা লোক রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর বাড়ীতে আসে। তার পবিত্র স্ত্রীগণ এই আয়াতের মর্মানুযায়ী লোকটিকে আসতে নিষেধ করেননি। ঘটনাক্রমে ঐ সময়েই রাসূলুল্লাহ (সঃ) এসে পড়েন। ঐ সময় সে হযরত উম্মে সালমা (রাঃ)-এর ভাই হযরত আবদুল্লাহ (রাঃ)-কে বলছিলঃ “আল্লাহ তা'আলা যখন তায়েফ জয় করাবেন তখন আমি তোমাকে গায়লানের মেয়ে দেখাবো। সে যখন আসে তখন তার পেটের উপর চারটি ভাঁজ পড়ে এবং যখন ফিরে যায় তখন আটটি ভাঁজ দৃষ্টিগোচর হয়। তার এ কথা শোনা মাত্রই রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেনঃ “সাবধান! এরূপ লোককে কখনো আসতে দিবে না।” অতঃপর তাকে মদীনা থেকে তাড়িয়ে দেয়া হয়। সে তখন বায়দা নামক স্থানে বসবাস করতে থাকে। প্রতি শুক্রবারে সে আসতো এবং লোকদের কাছ থেকে পানাহারের কিছু জিনিস নিয়ে চলে যেতো। অপ্রাপ্ত বয়স্ক ছেলেদের সামনে থাকার অনুমতি দেয়া হয়েছে, যারা এখনো স্ত্রীলোকদের বিশেষ গুণাবলী সম্পর্কে ওয়াকিফহাল নয়। স্ত্রীলোকদের প্রতি যাদের লোলুপ দৃষ্টি এখনো পতিত হয় না। হ্যা, তবে যদি তারা এমন বয়সে পৌছে যায় যে, স্ত্রীলোকদের সুশ্রী হওয়া বা বিশ্রী হওয়ার পার্থক্য তারা বুঝতে পারে এবং তাদের সৌন্দর্যে তারা মুগ্ধ হয়ে যায় তবে তাদের থেকেও পর্দা করতে হবে। যদিও তারা পূর্ণ যৌবনে পদার্পণ না করে।সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিমে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “তোমরা স্ত্রীলোকদের নিকট প্রবেশ করা হতে বেঁচে থাকো।” প্রশ্ন করা হলোঃ “হে আল্লাহর রাসূল (সঃ)! দেবর ও ভাসুর সম্পর্কে আপনার মত কি?” উত্তরে তিনি বলেনঃ “দেবর ও ভাসুর তো মৃত্যু (সমতুল্য)।” এরপর মহান আল্লাহ বলেনঃ স্ত্রীলোকেরা যেন তাদের গোপন আভরণ প্রকাশের উদ্দেশ্যে সজোরে পদক্ষেপ না করে। অজ্ঞতার যুগে এরূপ প্রায় হতো যে, স্ত্রীলোকেরা চলার সময় যমীনের উপর সজোরে পা ফেলতো যাতে পায়ের অলংকার বেজে উঠে। ইসলামে এরূপ করা নিষিদ্ধ হয়ে যায়। সুতরাং নারীদেরকে প্রতিটি এমন কাজ থেকে নষেধ করে দেয়া হয় যাতে তাদের গোপন আভরণ প্রকাশ পেয়ে যায়। তাই তার জন্যে আতর ও সুগন্ধি মেখে বাইরে বের হওয়াও নিষিদ্ধ।হযরত আবু মূসা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, নবী (সঃ) বলেছেনঃ “প্রত্যেক চক্ষু ব্যভিচারী, যখন নারী আতর মেখে, ফুল পরে, সুগন্ধি ছড়িয়ে পুরুষদের কোন মজলিসের পার্শ্ব দিয়ে গমন করে তখন সে এরূপ এরূপ (অর্থাৎ ব্যভিচারিণী)।” (এ হাদীসটি ইমাম আবু ঈসা তিরমিযী (রঃ) বর্ণনা করেছেন)হযরত আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, এমন এক নারীর সাথে আমার সাক্ষাৎ ঘটে যে সুগন্ধি ছড়িয়ে চলছিল। অমি তাকে জিজ্ঞেস করলামঃ তুমি কি মসজিদ হতে আসছো? সে উত্তরে বললোঃ “হ্যাঁ।” পুনরায় আমি তাকে প্রশ্ন করলামঃ তুমি কি সুগন্ধি মেখেছো? জবাবে সে বললোঃ “হ্যাঁ।” আমি তখন বললামঃ আমি আমার বন্ধু আবুল কাসিম (সঃ)-কে বলতে শুনেছিঃ “আল্লাহ এমন স্ত্রীলোকের নামায কবূল করেন না যে এই মসজিদে আসার জন্যে সুগন্ধি মেখেছে, যে পর্যন্ত না সে ফিরে গিয়ে অপবিত্রতার গোসলের ন্যায় গোসল করে।” (এ হাদীসটি ইমাম আবু দাউদ (রঃ) বর্ণনা করেছেন)হযরত মায়মূনা বিনতে সা’দ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “অস্থানে সৌন্দর্য প্রকাশকারিণী নারী কিয়ামতের দিনের ঐ অন্ধকারের মত যেখানে কোন আলো নেই।” (এ হাদীসটি ইমাম তিরমিযী (রঃ) বর্ণনা করেছেন)হযরত আবু উসাইদ আনসারী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, একদা রাসূলুল্লাহ (সঃ) পথে পুরুষ ও নারীদেরকে একত্রে মিলে মিশে চলতে দেখে বলেনঃ “হে নারীরা! তোমরা এদিকে ওদিকে হয়ে যাও। মাঝপথ দিয়ে চলা তোমাদের জন্যে শোভনীয় নয়। তাঁর এ কথা শুনে নারীরা দেয়াল ঘেঁষে চলতে শুরু করে। এমনকি দেয়ালের সাথে তাদের কাপড়ের ঘর্ষণ লাগছিল। (এ হাদীসটি ইমাম আবু দাঊদ (রঃ) বর্ণনা করেছেন)এরপর মহামহিমান্বিত আল্লাহ বলেনঃ হে মুমিনগণ! তোমরা সবাই আল্লাহর দিকে প্রত্যাবর্তন কর। আমার বাতলানো গুণাবলীর অধিকারী হয়ে যাও। অজ্ঞতার যুগের বদভ্যাসগুলো পরিত্যাগ কর। তাহলেই তোমরা সফলকাম হতে পারবে।