Yaseen • BN-TAFSEER-IBN-E-KASEER
﴿ قَالُوا۟ طَٰٓئِرُكُم مَّعَكُمْ ۚ أَئِن ذُكِّرْتُم ۚ بَلْ أَنتُمْ قَوْمٌۭ مُّسْرِفُونَ ﴾
“[The apostles] replied: “Your destiny, good or evil, is [bound up] with yourselves! [Does it seem evil to you] if you are told to take [the truth] to heart? Nay, but you are people who have wasted their own selves!””
১৮-১৯ নং আয়াতের তাফসীর: ঐ গ্রামবাসীরা রাসূলদেরকে বললোঃ “তোমাদের আগমনে আমরা বরকত ও কল্যাণ লাভ করিনি, বরং আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। জেনে রেখো যে, তোমরা যদি তোমাদের এ কাজ হতে বিরত না হও, বরং এসব কথাই বলতে থাকো তবে আমরা অবশ্যই তোমাদেরকে প্রস্তরাঘাতে হত্যা করবো এবং আমাদের পক্ষ হতে তোমাদের উপর বেদনাদায়ক শাস্তি আপতিত হবে।” রাসূলগণ উত্তরে বললেনঃ “তোমাদের অমঙ্গল তোমাদেরই সাথে। তোমাদের কাজই খারাপ। তোমাদের উপর বিপদ আপতিত হবার এটাই কারণ হবে। তোমরা যেমন কাজ করবে তেমনই ফল পাবে। এ কথাই ফিরাউন ও তার লোকেরা হযরত মূসা (আঃ) ও তাঁর কওমের মুমিনদেরকে বলেছিল। যখন তারা কোন আরাম ও শান্তি লাভ করতো তখন বলতোঃ “আমরা তো এর প্রাপকই ছিলাম। আর যখন তাদের উপর কোন বিপদ আপতিত হতো তখন হযরত মূসা (আঃ) ও মুমিনদেরকে কুলক্ষণে মনে করতো। যার জবাবে আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ ... (আরবী) অর্থাৎ “জেনে রেখো যে, আল্লাহর কাছে তাদের অমঙ্গল তাদের সাথেই।” অর্থাৎ তাদের বিপদাপদের কারণ তাদের খারাপ আমল, যার শাস্তি আল্লাহর পক্ষ হতে তাদের উপর আপতিত হচ্ছে। হযরত সালেহ (আঃ)-এর কওমও তাঁকে এ কথাই বলেছিল এবং তিনিও এ জবাবই দিয়েছিলেন। স্বয়ং হযরত মুহাম্মাদ (সঃ)-কেও একথাই বলা হয়েছিল। যেমন মহামহিমান্বিত আল্লাহ বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “যখন তাদের কাছে কোন কল্যাণ পৌঁছে তখন তারা বলেঃ এটা আল্লাহর পক্ষ হতে এবং যখন কোন অকল্যাণ পৌঁছে তখন বলেঃ এটা তোমার পক্ষ হতে। তুমি বলঃ সবই আল্লাহর পক্ষ হতে সুতরাং এই কওমের কি হয়েছে যে, তারা কথা বুঝতেই চাচ্ছে না?”(৪:৭৮)নবীরা তাদেরকে বললেনঃ এটা কি এজন্যে যে, আমরা তোমাদেরকে উপদেশ দিচ্ছি এবং তোমাদের মঙ্গল কামনা করছি তোমাদেরকে আল্লাহর একত্ববাদের দিকে আহ্বান করছি? তোমরা আমাদেরকে তোমাদের অমঙ্গলের কারণ মনে করে ফেললে এবং আমাদেরকে ভয় দেখাতে লাগলে! আর তোমরা আমাদের সাথে মুকাবিলা করতে প্রস্তুত হয়ে গেলে! প্রকৃত ব্যাপার এই যে, তোমরা সীমালংঘনকারী সম্প্রদায়। দেখো, আমরা তোমাদের মঙ্গল কামনা করছি, আর তোমরা আমাদের অমঙ্গল কামনা করছে। একটু চিন্তা করে বলতো, এটা কি ইনসাফের কাজ হচ্ছে? বড় আফসোসের বিষয় যে, তোমরা ইনসাফের সীমালংঘন করে ফেলেছে এবং ইনসাফ হতে বহু দূরে সরে পড়েছো!