Az-Zumar • BN-TAFSEER-IBN-E-KASEER
﴿ فَأَذَاقَهُمُ ٱللَّهُ ٱلْخِزْىَ فِى ٱلْحَيَوٰةِ ٱلدُّنْيَا ۖ وَلَعَذَابُ ٱلْءَاخِرَةِ أَكْبَرُ ۚ لَوْ كَانُوا۟ يَعْلَمُونَ ﴾
“and thus God let them taste ignominy [even] in the life of this world. Yet [how] much greater will be the [sinners’] suffering in the life to come - if they [who now deny the truth] but knew it!”
২৪-২৬ নং আয়াতের তাফসীর: আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ কিয়ামতের দিন যে ব্যক্তি তার মুখমণ্ডল দ্বারা কঠিন শাস্তি ঠেকাতে চাইবে, সে কি তার মত যে নিরাপদ? যেমন মহামহিমান্বিত আল্লাহ অন্য জায়গায় বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “যে ব্যক্তি ঝুঁকে মুখে ভর দিয়ে চলে, সে-ই কি ঠিক পথে চলে, না কি সেই ব্যক্তি যে ঋজু হয়ে সরল পথে চলে?" (৬৭:২২) ঐ কাফিরদেরকে কিয়ামতের দিন মুখের ভরে টেনে নিয়ে যাওয়া হবে এবং বলা হবেঃ আগুনের স্বাদ গ্রহণ কর। মহামহিমান্বিত আল্লাহ আরো বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “যেদিন তাদেরকে উপুড় করে টেনে নিয়ে যাওয়া হবে জাহান্নামের দিকে, সেই দিন বলা হবেঃ জাহান্নামের যন্ত্রণা আস্বাদন কর।” (৫৪:৪৮) আর এক জায়গায় বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “যাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে সেই উত্তম, না কি সেই উত্তম, যে কিয়ামতের দিন নিরাপদে আগমন করবে?" (৪১:৪০) এখানে এই আয়াতের ভাবার্থ এটাই। কিন্তু এক প্রকারের বর্ণনা দিয়ে দ্বিতীয় প্রকারকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। কেননা, এর দ্বারা ঐ প্রকারকেও বুঝা যায়।আল্লাহ তাআলা বলেনঃ তাদের পূর্ববর্তী লোকেরাও মিথ্যা আরোপ করেছিল এবং রাসূলদেরকে মিথ্যাবাদী বলেছিল, ফলে শাস্তি তাদেরকে গ্রাস করলো তাদের অজ্ঞাতসারে। ফলে আল্লাহর শাস্তি তাদেরকে পার্থিব জীবনেও লাঞ্ছিত ও অপমানিত করলো, আর পরকালের কঠিন শাস্তি তো তাদের জন্যে বাকী আছেই। সুতরাং হে মক্কার কাফিরের দল! তোমাদের এখন উচিত আল্লাহকে ভয় করা এবং আল্লাহর রাসূল (সঃ)-এর সাথে দুর্ব্যবহার করা হতে বিরত থাকা। নতুবা তোমাদের অবাধ্যতা ও হঠকারিতার কারণে হয়তো তোমাদের উপরও আল্লাহর কঠিন শাস্তি নেমে আসবে। তোমাদের জ্ঞান থাকলে তোমাদের পূর্ববর্তীদের অবস্থা তোমাদের শিক্ষা ও উপদেশ গ্রহণের জন্যে যথেষ্ট।