Al-Qasas • BN-TAFSIR-AHSANUL-BAYAAN
﴿ وَلَٰكِنَّآ أَنشَأْنَا قُرُونًۭا فَتَطَاوَلَ عَلَيْهِمُ ٱلْعُمُرُ ۚ وَمَا كُنتَ ثَاوِيًۭا فِىٓ أَهْلِ مَدْيَنَ تَتْلُوا۟ عَلَيْهِمْ ءَايَٰتِنَا وَلَٰكِنَّا كُنَّا مُرْسِلِينَ ﴾
“nay, but [between them and thee] We brought into being [many] generations, and long was their span of life. And neither didst thou dwell among the people of Madyan, conveying Our messages unto them: nay, but We have [always] been sending [Our message-bearers unto man].”
বস্তুতঃ (মূসার পর) অনেক মানবগোষ্ঠীর আবির্ভাব ঘটিয়েছিলাম;[১] অতঃপর ওদের বহু যুগ অতিবাহিত হয়ে গেছে।[২] তুমি তো মাদ্য়্যানবাসীদের মধ্যে বিদ্যমান ছিলে না[৩] ওদের নিকট আমার বাক্য আবৃত্তি করার জন্য । কিন্তু আমিই ছিলাম রসূলপ্রেরণকারী। [৪] [১] قُرُون শব্দটি قَرن শব্দের বহুবচন, যার অর্থ যুগ বা শতাব্দী। কিন্তু এখানে সম্প্রদায় বা জাতির অর্থে ব্যবহূত হয়েছে। অর্থাৎ, হে মুহাম্মাদ! তোমার ও মূসার মাঝে যে সকল যুগ অতিবাহিত হয়েছে তাতে আমি বেশ কিছু সম্প্রদায় সৃষ্টি করেছি। [২] অর্থাৎ, কালের আবর্তনে ধর্মের বিধি-বিধান পরিবর্তিত হয়ে গেছে এবং মানুষ ধর্ম ভুলে বসেছে। যার কারণে তারা আল্লাহর নির্দেশাবলী বর্জন করে এবং তাঁর সাথে কৃত অঙ্গীকার ভুলে বসে। সুতরাং এক নতুন নবী প্রেরণের প্রয়োজন দেখা দেয়। অথবা এর অর্থ এই যে, সময়ের ব্যবধান বেশি হওয়ার কারণে আরবের লোকেরা নবুঅত ও রিসালাত সম্পূর্ণভাবে বিস্মৃত হয়। যার কারণে ওরা তোমার নবুঅতের ব্যাপারে আশ্চর্য বোধ করে এবং তোমাকে নবী বলে মেনে নিতে প্রস্তুত হয় না। [৩] যার ফলে তুমি নিজে এই ঘটনার বিস্তারিত সব কিছু জানতে পারতে। [৪] আর সেই নিয়মানুসারেই আমি তোমাকে রসূলরূপে প্রেরণ করেছি এবং পূর্বের অবস্থা ও ঘটনাবলী সম্পর্কে অবহিত করেছি।